খুব কম বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়েছেন! নিজের চেষ্টায় হয়েছেন অভিনেত্রী, সন্ধ্যা রায়ের জীবন কাহিনী যেন সিনেমার গল্প

খুব কম বয়সেই বাবা-মাকে হারিয়েছেন! নিজের চেষ্টায় হয়েছেন অভিনেত্রী, সন্ধ্যা রায়ের জীবন কাহিনী যেন সিনেমার গল্প


আশির দশকের অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে অভিনয় ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রতা দেখতে পাওয়া যেত। যা দিয়ে তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সহজ হত। তখন কোন অভিনেত্রী যদি মায়ের চরিত্রে বা স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করত মানুষ তাদের সাথে নিজেদের বাস্তবতাকে খানিকটা রিলেট করতে পারত কিন্তু বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির চরিত্রগুলো খানিকটা অন্যরকম। আজকাল সব কিছু মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। কোন কিছুর মধ্যেই নেই বিশেষ কোনো স্বাতন্ত্র্যতা। আশির দশকের লক্ষ্মীমন্ত বউয়ের বা পরম মমতাময়ী মায়ের অভিনয় যারা অত্যন্ত সাবলীল ভাবে করতে পারতেন তাদের মধ্যে অন্যতম সন্ধ্যা রায়। আজ তার জন্মদিন। তিনি পা রাখলেন আশিতে।

তার সাবলীল অভিনয় দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিল খুব অল্প সময়ে। পতিব্রতা স্ত্রী ও জননীর ভূমিকায় তিনি নজর কেড়েছিলেন দর্শকের। ঘরোয়া গৃহস্থ বাড়ির বউ এর মতই দিয়েছিলেন ধরা দর্শকের চোখে। মা লক্ষ্মীর মত মুখ বাঙালি ঘরে বিশেষভাবে সমাদৃত হতেন তিনি। তাই বাঙ্গালী সিনেমা জগতে নিপাট ঘরোয়া চরিত্রে তিনি বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন দর্শক হৃদয় জয় করতে।

আরো পড়ুন -  কালো পোশাকে উন্মুক্ত বক্ষবিভাজিকা, সোশ্যাল মিডিয়ায় উষ্ণতা ছড়ালেন বাঙালি অভিনেত্রী পায়েল সরকার

একদম ছোট থেকেই কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে জীবনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তিনি। সাত বছর বয়সে বাবাকে হারান এবং ন বছর বয়সে মাকে। মা বাবা মারা যাওয়ার পর মামার কাছে গিয়ে মানুষ হন তিনি। তার একটা ভাইও ছিল। মামার কাছে গিয়েই তিনি স্কুলে ভর্তি হন এবং পড়াশোনা শুরু করেন। তখনকার দিনে মেয়েদের অভিনয় করাটাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখতেন না। ১৯৫৭ সালে তিনি ভারতে আসেন চলচ্চিত্র জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন। আর সেই স্বপ্ন সফল করতেই শুরু হয় তার কঠোর সংগ্রাম। আর এই লড়াই চালিয়ে ছিলেন তিনি নিজেই।

আশির দশকের অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে অভিনয় ক্ষেত্রে স্বতন্ত্রতা দেখতে পাওয়া যেত। যা দিয়ে তাদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা সহজ হত। তখন কোন অভিনেত্রী যদি মায়ের চরিত্রে বা স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করত মানুষ তাদের সাথে নিজেদের বাস্তবতাকে খানিকটা রিলেট করতে পারত কিন্তু বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির চরিত্রগুলো খানিকটা অন্যরকম। আজকাল সব কিছু মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। কোন কিছুর মধ্যেই নেই বিশেষ কোনো স্বাতন্ত্র্যতা। আশির দশকের লক্ষ্মীমন্ত বউয়ের বা পরম মমতাময়ী মায়ের অভিনয় যারা অত্যন্ত সাবলীল ভাবে করতে পারতেন তাদের মধ্যে অন্যতম সন্ধ্যা রায়। আজ তার জন্মদিন। তিনি পা রাখলেন আশিতে।

আরো পড়ুন -  ড্রাগের নেশা কেন করেন বলিউড তারকারা? শুনে নিন রাখির স্পষ্ট উত্তর

তার সাবলীল অভিনয় দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিল খুব অল্প সময়ে। পতিব্রতা স্ত্রী ও জননীর ভূমিকায় তিনি নজর কেড়েছিলেন দর্শকের। ঘরোয়া গৃহস্থ বাড়ির বউ এর মতই দিয়েছিলেন ধরা দর্শকের চোখে। মা লক্ষ্মীর মত মুখ বাঙালি ঘরে বিশেষভাবে সমাদৃত হতেন তিনি। তাই বাঙ্গালী সিনেমা জগতে নিপাট ঘরোয়া চরিত্রে তিনি বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন দর্শক হৃদয় জয় করতে।

‘মামলার ফল’ সিনেমার মধ্যে দিয়েই তিনি অভিনয় জগতে প্রথম পদার্পণ করেন। ওই সিনেমায় তাকে অভিনয় করতে দেখা যায় সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় এর পাশাপাশি। দর্শককে দেওয়া তার হিট ছবি বাবা তারকনাথ, অশনি সংকেত, ঠগীনি। মা আমার মা,খনা প্রভৃতি। নায়িকার চরিত্রে অভিনয় না করলেও তিনি তার চরিত্রটি বেশ আকর্ষণীয় ভাবে ফুটিয়ে তুলছেন দর্শকের সামনে এবং দর্শকের কাছে তার চরিত্র বেশ আকর্ষনীয়ও হয়ে উঠত। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের রাজনৈতিক ময়দানে আসা আজকের দিনে নতুন নয়। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তিনি যোগদান করেছিলেন রাজনৈতিক ময়দানে। ২০১৪ সাধারণ নির্বাচনে ১৬ তম লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

আরো পড়ুন -  ঢিলে অন্তর্বাস, কপালে পোড়া দাগ নিয়েই মিস ওয়ার্ল্ডের মঞ্চে গিয়েছিলেন 'দেশি গার্ল' প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

তরুণ মজুমদারের ছবিতে সন্ধ্যা রায় কে অভিনয় করতে দেখা যায় বিভিন্ন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। এরপর তরুণ মজুমদারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি কিন্তু তাদের সম্পর্ক টেকেনি বেশিদিন। বিচ্ছেদ হয় খুব তাড়াতাড়ি। তাপস পালের মৃত্যুতে এই অভিনেত্রী ভেঙে পড়েছিলেন খুব। কারণ দাদার কীর্তি সিনেমার পর থেকেই তিনি তাকে সন্তানের মতো ভালোবেসে ছিলেন। অন্যান্য আর সকল প্রবীণ অভিনেতা অভিনেত্রীদের মধ্যে সন্ধ্যা রায় বেশ জনপ্রিয় এবং পরিচিত অভিনেত্রী বাঙালি তথা বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে।